আত্নহত্যা রোধে আমাদের করনীয়


আত্নহত্যা রোধে আমাদের করনীয়



মানুষ যখন নিজেই নিজের মৃত্যু ঘটায়, তখন একে আত্মহত্যা বা সুইসাইড বলে। অল্পবয়সী মেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি দেখা যায়। আত্মহত্যার হার বেশি থাকে মানুষিক রোগীদের মধ্যে।

বিষণ্ণতা, বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার, মাদকাসক্ত, উদ্বেগে আক্রান্ত ইত্যাদি রোগীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবনতা বেশি। কিছু সংখ্যক মানুষের মধ্যে এক ধরনের তীব্র আশাহীনতা তৈরি হয়। তারা দুনিয়ার সব কিছু নেতিবাচকভাবে দেখে। জীবনের ছোট-খাটো সমস্যাগুলোকে তারা অনেক বড় করে দেখে। তারা মনে করে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য শত চেষ্টায়ও কোনো লাভ হবে না। বরং এই পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হবে। আর এর থেকে মুক্তির একমাত্র পথ আত্নহত্যা। আর এমন চিন্তা থেকেই বেশি সংখ্যক মানুষ আত্নহত্যা করে। আবার কখনো কখনো অনেক মানুষিক রোগী খামোখাই তীব্র অপরাধবোধে ভোগে। ফলে নিজেকে শাস্তি দিতেই তারা আত্মহত্যা করে। অনেকে আবার তীব্র নির্যাতন সইতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যা করেন। মোটকথা আত্নহত্যাকারীর মধ্যে জীবন নিয়ে অনেক বেশি হতাশা এবং নেতিবাচক চিন্তা থাকে। আর এর ফলেই আত্নহত্যাকারী আত্নহননের পথ বেছে নেয়

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক আত্নহত্যা রোধে আমাদের করনীয়ঃ

আত্নহত্যাকারীকে মানসিক সমর্থন দিন। তাঁর সমস্যাগুলো জেনে নিয়ে যতটুকু পারা যায়, সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। সমাধানযোগ্য না হলে তাঁকে জানান যে এই বিপদের দিনে তাঁর সঙ্গে আপনি আছেন। তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। ভুলেও আত্মহত্যার চেষ্টা নিয়ে কটাক্ষ করবেন না। উসকানিমূলক কিছু বলবেন না। তার দুঃখের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কোনো উপদেশ দেবেন না। শুধু শুনে যান।

কিছুটা কথা বলার মতো অবস্থা হলে তাঁকে সাইকোথেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। সাইকোথেরাপি হলো এক ধরনের কথার চিকিৎসা

আপনার পরিবারের কারো যদি আত্মহত্যার ঝুঁকি থাকে, তবে তাঁকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ করবেন। তাঁর যত্ন নেবেন, লক্ষ রাখবেন, মানসিক সমর্থন দেবেন, শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা নিখুঁতভাবে করবেন।


— বিবাহ, সন্তান ও ভালোবাসাপূর্ণ পারিবারিক সম্পর্ক।
— জোরদার সামাজিক সম্পর্ক।
আত্মনিয়ন্ত্রণ ভালো থাকা।
— পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও তাদের সম্মানহানির কারণ বা ক্ষতির কারণ হওয়ার ভয়।
ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মচর্চা।
— পেশায় নিয়োজিত থাকা।
— ইতিবাচক চিন্তা করা।

খুব বেশি মরে যেতে ইচ্ছা হলে পরিবারের সদস্যদের, বন্ধুদের বলুন। তাঁদের সমর্থন নিন। ধৈর্য ধরুন এবং ইতিবাচক চিন্তা করার চেষ্টা করুন। নিজেকে ভালোবাসুন। মনে রাখবেন আত্নহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়