জীবন চলার পথ কখনই
কুসুমাস্তীর্ণ নয়। চলার পথে বাধা-বিপত্তি থাকবেই। আর জীবনের সব রকম প্রতিকূল অবস্থার
সাথে লরাই করে বেচেঁ থাকার মাঝেই জীবনের স্বার্থকতা। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত
থাকে হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ। তবে আমরা অনেকেই আমাদের জীবন নিয়ে হতাশ। আমরা অনেকেই
জীবনের এই ছোট-বড় সমস্যার সমাধানের একমাত্র উপায় হিসেবে আত্নহত্যাকেই বেছে নিই।
সকল অশান্তি ও সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমরা আত্নহননের মত ভুল সিদ্ধান্ত নিই।
কিন্তু আপনি কি একবারও
ভেবে দেখেছেন? আত্নহত্যাই কি আসলে সব সমস্যার সমাধান? আত্নহত্যার মধ্য দিয়ে কিসবকিছু থেকে মুক্তি মেলে?
আত্নহত্যা একটি ভয়ঙ্করসামাজিক ব্যাধি। অন্যদিকে আত্নহত্যা মহা পাপ। ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা কবীরা
গুনাহ। শিরকের পর সবচে বড় গুনাহ। সকল ফিকহবিদ এবং চার মাজহাবেই আত্মহত্যা হারাম।
কারণ, আল্লাহ
তা’আলা মানুষকে মরণশীল হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন। ধনী-গরীব,
বিদ্বান-মূর্খ, রাজা-প্রজা সবাইকে মরতেই হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
‘প্রতিটি প্রাণমৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, তারপর
আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ {সূরা আল-আনকাবূত,
আয়াত : ৫৭}
আর এ মৃত্যু দান করেন
একমাত্র তিনিই। তিনি ছাড়া কেউ কাউকে মৃত্যু দিতে পারে না। এ কাজ থেকে বিরত থাকতে
মহান আল্লাহ বিশেষভাবে নির্দেশ দান করেছেন এবং এর পরিণামের কথা ভাববার জন্য কঠোর ও
যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির বর্ণনা দিয়ে মহা পবিত্র আল কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
আর তোমরা নিজেদের
হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। এবং যে কেউ জুলুম করে,
অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে,
অবশ্যই আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো,
আল্লাহর পক্ষে তা
সহজসাধ্য।’ {সূরা আন-নিসা, আয়াত : ২৯-৩০}
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাই কাজটি থেকে নানাভাবে বারণ করেছেন। এ থেকে মানুষকে সতর্ক
করেছেন। যেমন :
ছাবিত বিন যিহাক
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে
কোনো বস্তু দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সে বস্তু দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে।’ [বুখারী :
৫৭০০; মুসলিম : ১১০]
আত্মহত্যা এতই গর্হিতকাজ যে এর প্রতি ধিক্কার জানিয়ে অন্যদেরকে এ থেকে সতর্ক করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আত্মহত্যাকারীর জানাযা ত্যাগ করেন। আর সাহাবীগণ তাঁর স্থলে এমন
ব্যক্তির জানাযা পড়েছেন।
আত্নহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি চরম বোকামি। তাই আমাদের সকলের উচিৎ জীবনের সকল প্রতিকুল অবস্থাতে ধৈর্য
না হারিয়ে লাড়াই করা। আসুন আমরা নিজেকে, নিজের জীবনকে ভালোবাসি।
