আত্নহত্যা মহা পাপ






সুখ – দুঃখ, হাসি – কান্না এই নিয়েই আমাদের জীবন। আর জীবনের প্রতিটি বাকে বাকে এই সুখ – দুঃখ, হাসি – কান্না মিলিয়েই আমাদের জীবনের পূর্ণতা। সব কিছুরই যেমন শুরু আছে তেমনি তার শেষ ও আছে। ঠিক তেমনি জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের এই সময়টাতে অনেক পরিবর্তন হতে থাকে। আর জীবনের এই ছোট বড় পরিবর্তনকে আমরা অনেকেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারিনা। তখন আমাদের অনেকের জীবনেই নেমে আসে হতাশা। আর এই হতাশার জের ধরেই আমরা অনেকেই আত্নহননের মত ভুল পথ বেছে নিই। আর এই আত্নহত্যা একটি ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি। ইসলামের দৃষ্টিতেআত্নহত্যা মহা পাপ

ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা নিষিদ্ধ, আত্মহত্যাও নিষিদ্ধ। মানুষ নিজের প্রাণের মালিক নিজে নয়। প্রত্যেক প্রাণের মালিক মহান রাব্বুল আলামিন। তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। তিনি সব মানুষের জানের নিরাপত্তা দিয়েছেন। আত্মহত্যা করা মুসা (আ.)-এর যুগে পাপ থেকে তাওবা করার একটি পদ্ধতি ছিল। বনি ইসরাইল যখন গরু পূজা করে শিরকে লিপ্ত হয়েছিল, তখন তাদের তাওবা করার জন্য নিজে নিজেকে হত্যা ও একে অন্যকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছিল। তবে উম্মতে মুহাম্মদির বৈশিষ্ট্য হলো, তারা নিজেকে পাপের তাওবা হিসেবে হত্যা করতে পারবে না।

বিভিন্ন হাদিসে পাওয়া যায়, যারা আত্মহত্যা করতেন নবী (সা.) তাদের জানাজা নামাজ পড়তেন না। একটি হাদিসে এসেছে, জাবের ইবনে সামুরার কাছ থেকে বর্ণিত যে, একজন লোক নিজেকে তীরবিদ্ধ করে মেরে ফেলে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার জন্য আমি তার জানাজার নামাজ পড়াব না। (মুসলিম)
আত্মহত্যা কবীরা গুনাহ। রাসুল(সঃ)সহ  রাষ্ট্রের  উচু পর্যায়ের কেউ যেমন হযরত উমর(রাঃ), আবুবকর(রাঃ),হযরত আলী(রাঃ)সহ  বহু উচু পর্যায়ের সাহাবীরা এই ধরনের জানাযায় অংশগ্রহন করতেন না না। উনাদের সময় একটা নিয়ম হয়ে গিয়েছিল কারা জানাযায় অংশগ্রহন করবেন না। কারন হচ্ছে, এই ধরনের কাজ যারা করে, তাদের চিন্তায় যেন এটা থাকে, আমি আত্মহত্যা করলে, দেশের মহান সম্মানিত সাহাবীরা বা রাসুল(সঃ) জানাযায় অংশগ্রহন করবেন না।

এছাড়াও জাবের বিন সামুরাহ (রাদিঃ) হতে বর্ণিতঃ

জনৈক ব্যক্তি লৌহ ফলক দ্বারা আত্মহত্যা করলেরাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ আমি কিন্তু তার জানাযা সালাত আদায় করব না। তার জানাযা সালাত আদায় করা যাবে না এটা ইসলামে অবৈধ।