একেবারেই
ঠিক শুনেছেন,একাধিক গবেষণাতে প্রমাণিত হয়ে গেছে বাঁচা-মরার সঙ্গে বাস্তবিকই হাঁচির যে যোগ রয়েছে । আসলে হাঁচির সময় নাক বা মুখ বন্ধ করলে শরীরের বিভিন্ন অংশে এত মাত্রায় চাপ বৃদ্ধি পায় যা দেহের অন্দরে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
এমনকি মস্তিষ্কে চোট লাগার কারণে
মারাত্মক
কিছুও হতে পারে । তাই ভুলেও হাঁচিকে আটকে রাখবেন না।
আসলে
যখন আমাদের শরীর, পরিবেশে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানের কারণে হওয়া সংক্রমণের হাত থেকে আমাদের বাঁচায়, তখনই সাধারণত হাঁচি আসে।
তাই তো একথা বলতেই হয় যে হাঁচি একেবারেই খারাপ কিছু নয়, বরং শরীরের পক্ষে খুবই উপকারি।
সেই কারণেই এবার থেকে বারে বারে যখন নাক সুরসুরিয়ে হাঁচি আসবে, তখন জানবেন শরীর আপনাকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তাই তো চিকিৎসকেরা শরীরের এই ডিফেন্স মেকানিজমকে মাঝ পথে বাঁধা দিতে মানা করেন । আমাদের শরীরে যখন নানাবিধ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করার চেষ্টা করে, তখন শরীরের বিশেষ একটা মেকানিজম অ্যাকটিভেট হয়ে গিয়ে হাঁচি শুরু হয়। হাঁচির চোটে সেই সব ক্ষতিকর উপাদানগুলি আমাদের শরীর থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার/প্রতি ঘন্টা স্পিডে বাইরে বেরিয়ে আসে।
ফলে রোগভোগের আশঙ্কা কমে যায়।
সুস্থ
থাকতে হলে বার বার হাঁচি আসাটা খুবই জরুরি। সম্প্রতি
এই বিষয়ের উপর হওয়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে হাঁচির সময় প্রচন্ড স্পিডে হাওয়া নাক এবং মুখ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চায়।
সেই সময় এই এয়ার প্রেসারকে যদি আটকে দেওয়া হয়, তাহলে বায়ু প্রবাহ উল্টো পথ ধরে
শরীরের অন্দরে প্রবেশ করে।
ফলে একেবারেই প্রথমেই মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয় গলা এবং ফুসফুসের উপর। ফলে
শরীরের এই অংশের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কেও চোট লাগার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
তাই সাবধান! এখানেই শেষ নয়,বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে আপনি যদি হাচির আসার সময় হাঁচি আটকে দিন তাহলে আপনার শরীরের একাধিক অঙ্গ মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
এমনকি এই কারনে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
আসলে
হাঁচি আটকালে যে গতিতে বায়ু বাইরে বেরতে চাইছে, তা উল্টো গতিতে শরীরে ভিতরে চলে গিয়ে কান, মস্তিষ্ক, ঘার,
ডায়াফরাম প্রভৃতি অংশে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে।
ফলে ধীরে ধীরে শরীরের এই অংশগুলির কর্মক্ষমতা কমে যেতে শুরু করে।
এখানেই শেষ নয়, আরও নানাবিধ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে হাঁচি
আটকালে । এই কদিন আগেই যেমন ৩৪ বছরের এক ব্য়াক্তি অফিস মিটিং-এর সময় আসা হাঁচি ভুলে আটকে ফেলেছিলেন।
এমনটা করার কারণে গলায় এত চোট লেগেছিল যে কথা বলতেও সমস্য়া হচ্ছিলো।
সেই সঙ্গে যন্ত্রণা তো ছিলই।
এবার বুঝতে পারছেনতো
আপাত
দৃষ্টিতে হাঁচিকে কেউ তেমন একটা গুরুত্ব না দিলেও শরীরের ভাল মন্দের সঙ্গে এর সরাসরি যোগ রয়েছে।
হাঁচির সময় প্রায় ১০০-১৬০ কিলোমিটার/প্রতি
ঘন্টা গতিতে বায়ু নাকের ছিদ্র দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।
তাই সে সময় যদি এই বায়ু প্রবাহকে জোর করে আটকানো হয়, তাহলে তা সম
গতিতে শরীরের ভিতরে চলে যায় এবং একাধিক অঙ্গের ক্ষতি সাধন করে।
যেমন ধরুন কানে যদি এর প্রভাব পরে তাহলে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে।
ফলে কালা হয়ে যাওয়ার অশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
এখানেই শেষ নয়, হাঁচি আটকালে শরীর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেড়ে যেতে শুরু করে।
ফলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।




