শবে বরাতের সুস্বাদু হালুয়া
শবে বরাত আসলেই আমাদের সবার বাসায় কমবেশি রুটি হালুয়া বানানোর ধুম পরে যায়। তাই আজ আপনাদের সুবিধার্থে নিয়ে হাজির হয়েছি বিভিন্ন স্বাদের হালুয়ার ১০টি রেসিপি। তাহলে এক ঝলকে দেখে নিন মজাদার সব হালুয়া রেসিপিগুলো।
উপকরণঃ গাজর গ্রেট করা ২ কাপ, ছানা ১ কাপ, ফেটানো ডিম ২টা, ঘন দুধ ১ কাপ, চিনি ২ কাপ, ঘি আধা কাপ, পেস্তাকুচি ২ টেবিল চামচ, কাঠবাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ, কাজুবাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, মাওয়া ৩ টেবিল চামচ, কেশর সিকি চা চামচ (দুধে ভেজানো), এলাচ গুঁড়া আধা চা চামচ ও গোলাপ জল ৩ চা চামচ।
প্রণালীঃ গাজর হালকা ভাপ দিয়ে নিন। এবার প্যানে ঘি দিয়ে গাজর ভুনে নিন। চিনি দিন। এরপর ছানা ও ঘন দুধ দিয়ে নাড়–ন। ডিম দিয়ে দ্রুত নাড়–ন। কিছু বাদাম কুচি রেখে বাকি সব বাদাম কুচি, কিশমিশ, এলাচ গুঁড়া, মাওয়া গুঁড়া, কেশর ও গোলাপ জল দিয়ে নাড়–ন। হালুয়া প্যানে গা ছেড়ে এলে ঘি মাখানো ডিশে ঢেলে সমান করে বাদাম কুচি ছিটিয়ে দিন। ঠাণ্ডা হলে ইচ্ছামতো টুকরা করে নিন।
উপকরণ: গোল আলু (সেদ্ধ করে চটকে নেওয়া) ২ কাপ, চিনি ২ থেকে ৩ কাপ, এলাচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, মাখন ২ টেবিল চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, চকলেট আধা কাপ, ডিম তিনটা, বাদাম ও কিশমিশ পছন্দমতো, কোকো পাউডার ২ টেবিল চামচ।
#প্রণালি: আলুর সঙ্গে চিনি, এলাচ গুঁড়া ও ডিম দিয়ে মেখে নিতে হবে। চুলায় ঘি গরম করে ১ টেবিল চামচ মাখন দিয়ে আলুর মিশ্রণ দিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে, বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে নামাতে হবে। এটি তিন ভাগ করে নিতে হবে। এক ভাগ আলুর হালুয়ার সঙ্গে গলানো চকলেট, কোকো পাউডার ও মাখন মিশিয়ে নিতে হবে। সাদা রঙের হালুয়ার ওপর চকলেট হালুয়া স্তর করে বসাতে হবে। এর ওপর আবার সাদা হালুয়া দিয়ে ওপরে বাদাম, কিশমিশ, চকলেট দিয়ে পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
৩. ডিমের হালুয়া
উপকরণঃ ডিম ৪টি, চিনি ৩-৪ কাপ, ঘন দুধ ৩-৪ কাপ, ঘি ১-২ কাপ, এলাচ ২টি, দারচিনি ২ সেমি. ২ টুকরা, গোলাপজল ২ টেবিল চামচ, জাফরান সামান্য।
প্রণালী : গোলাপজলে জাফরান ভিজিয়ে রাখুন। ডিম ভালো করে ফাটিয়ে সব উপকরণ একসঙ্গে ভালো করে মেশাতে হবে। এবার হাল্কা আচে কড়াইয়ে মিশ্রণটি ঢেলে নাড়তে থাকুন। সাবধানে নাড়তে হবে যেন তলায় লেগে না যায়। ডিম জমাট বেঁধে মিহিদানার মতো হলে হালুয়া থেকে ঘি বের হবে। এবার চুলা থেকে নামিয়ে পরিবেশন পাত্রে ঢেলে মাওয়া বা পেস্তা কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন মজার স্বাদের ডিমের হালুয়া।
৪. চকলেট হালুয়া
উপকরণ : সুজি আধা কাপ, বেসন আধা কাপ, চিনি এক কাপ, ঘি আধা কাপ, কোকো পাউডার ২ টেবিল চামচ, চকলেট সিরাপ ১ টেবিল চামচ, জয়ফল, দারুচিনি গুঁড়ো সামান্য, ডিম ৩টা, পানি ২ কাপ।
প্রণালী : ডিম, কোকো পাউডার, চকলেট সিরাপ, চিনি ও পানি এক সঙ্গে ব্লেন্ড করুন। কড়াইয়ে ঘি ঢেলে গরম করে সুজি, ঢালুন। সুজি ভাজা হয়ে গেলে বেসন দিয়ে নাড়তে থাকুন। এরপর ব্লেন্ড করা মিশ্রণ ঢেলে দিন। পানি শুকিয়ে তেল ওপরে ভেসে উঠলে জয়ফল-দারুচিনি গুড়া মিশিয়ে চুলা থেকে নামান। ঠান্ডা হলে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
উপকরণ : কাঁচা পেঁপে ২ কেজি, চিনি ৩ কাপ, ঘি ১ কাপ, দুধ দিলে ভালো না দিলেও হবে।
পদ্ধতি : পেঁপে ভালো করে ধুয়ে খোসা ছিলে নিয়ে একটি পাত্রে ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করুন। খেয়াল রাখুন ঢাকনা যেন পাত্রের সঙ্গে এঁটে থাকে। পানি টেনে আসলে পেঁপে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে ভালো করে বাটতে হবে। যে পাত্রে রান্না করবেন সেটাতে আগে ঘি গরম করে তাতে সিদ্ধ পেঁপেবাটা দিয়ে দিন। এখন বেশ ভালো আঁচে নাড়তে হবে। পানি টেনে আসলে গুঁড়া দুধ (যদি মেশান) বারবার ছিটিয়ে নাড়তে হবে। দুধ মিশে গেলে চিনি দিন। নাড়তে নাড়তে যখন হালুয়া পাত্র থেকে সহজে উঠে যাচ্ছে ঠিক তখন নামিয়ে আনুন। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।
৬. পেঁপের হালুয়া ২
উপকরণ : ১ কাপ, মাওয়া ১ কাপ, কাঁচা পেঁপে সেদ্ধ করে বাটা ১ কাপ, চিনি ২ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, গোলাপ জল, প্রয়োজনমতো সবুজ রং, কিসমিস সাজানোর জন্য।
প্রণালী : পাত্রে (প্যান) পেঁপে, ছানা, মাওয়া, চিনি ও ঘি দিয়ে সাথে সবুজ রং দিয়ে কম আঁচে ভুনতে হবে। প্যানের গা ছেড়ে এলে নামান। নামানোর আগে গোলাপজল ছড়িয়ে দিতে হবে। ছাঁচে দিয়ে সন্দেশ তৈরি করে কিসমিস দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
উপকরণ : কাজু বাদাম ২ কাপ, ছানা ২ কাপ, চিনি ২ কাপ, এলাচ গুঁড়া সিকি চা চামচ, ঘি আধা কাপ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, কিসমিস ১ টেবিল চামচ, কাজু ও পেস্তা বাদাম সাজানোর জন্য।
প্রণালী : কাজু বাদাম হালকা ভেজে তিন-চার ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পানি থেকে তুলে কাজু বাদাম ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। চুলায় পাত্রে ঘি দিয়ে কাজু বাদাম ও ছানা দিয়ে ভাজতে থাকুন এবং চিনি দিন। দ্রুত নাড়তে থাকুন। ময়দা, এলাচ গুঁড়া দিন। হালুয়া হয়ে এলে প্লেটে সাজিয়ে কিসমিস, কাজু ও পেস্তা বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন।
৮. ছোলার হালুয়া
উপকরণ : ছোলার ডাল ৫০০ গ্রাম, দুধ ১ লিটার, চিনি ৭৫০ গ্রাম, ঘি চারভাগের এক কাপ, এলাচ গুঁড়ো , দারচিনি গোলাপজল ১ টেবিল চামচ। কিসমিস ৩ টেবিল চামচ, পেস্তা বাদাম কুচি ৩ টেবিল চামচ।
প্রণালী : ছোলার ডাল, দুধ দিয়ে সেদ্ধ করে শুকিয়ে গেলে গরম অবস্থায় বেটে নিতে হবে। কড়াইতে ঘি দিয়ে ডাল বাটা দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে চিনি দিয়ে আরো নাড়তে হবে। এলাচ, দারচিনি গুঁড়ো দিতে হবে। হালুয়া তাল বেঁধে উঠলে কিসমিস, গোলাপজল দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে-চেড়ে চুলা থেকে নামিয়ে বরফি করা চাইলে বড় খাঞ্জায় ঘি লাগিয়ে পেস্তা বাদাম কুচি ছিটিয়ে গরম হালুয়া ঢেলে সমান করতে হবে। ঠাণ্ডা হলে ছাঁচে বসিয়ে বিভিন্ন নকশা করে পরিবেশন করুন।
৯. ডালের হালুয়া
উপকরণ : ছোলার ডাল আধা কেজি। ঘি আধা কাপ। কনডেন্সড মিল্ক পুরো এক কৌটা। চিনি দেড় কাপ।
পদ্ধতিঃ ডাল ধুয়ে চার কাপ পানি দিয়ে সিদ্ধ বসান। নাড়া লাগবে না, আগুনের আঁচ মোটামুটি হলেই চলবে। নাড়া দিলে ডালগুলো ভেঙে লেগে যেতে পারে। পানি ফুটলে জ্বাল কমিয়ে ঢেকে দিন। ডাল সিদ্ধ হয়ে এলে নামিয়ে শিল-পাটায় মিহি করে বাটতে হবে। এবার মিহি করা ডাল একটি পাত্রে নিয়ে সব উপকরণ একসঙ্গে দিয়ে বারবার নাড়তে থাকুন। এ সময় জ্বাল বাড়িয়ে দিতে হবে। নইলে রং সুন্দর হবে না। নাড়তে নাড়তে যখন দেখবেন হালুয়ার পাত্র থেকে সহজে উঠে যাচ্ছে, ঠিক তখনই নামিয়ে ফেলতে হবে। গরম গরম অবস্থাতেই হালুয়া একটা স্টিলের প্লেটে নিয়ে সমান করে বিছিয়ে দিন। তারপর চাকু দিয়ে বরফি আকারে কাটুন বা আপনার ইচ্ছামতো আকারেও কাটতে পারেন। ঠান্ডা হয়ে গেলে একটা একটা করে উঠিয়ে বাদাম ও কিশমিশ লাগিয়ে পরিবেশন করুন।
১০.সুজির হালুয়া
উপকরনঃ সুজিঃ হাফ কাপ (শুধু একজনের জন্য), তেলঃ এক কাপের চার ভাগের চেয়ে কিছু বেশী, ঘিঃ এক চা চামচ (এটা শুধু ঘ্রান এবং স্বাদ বাড়িয়ে দেয়ার জন্য, পছন্দ না করলে নাও দিতে পারেন), দুধঃ দুই কাপ (পাউডারের দুধে বানিয়ে নিতে পারেন, আর খাঁটি গরুর দুধ হলে কথাই নাই), চিনিঃ স্বাদ বুঝে, পরিমান মত (আমি চিনি কমে বিশ্বাসী), এলাচিঃ দুই/তিনটা, দারুচিনিঃ দুইটা (এক ইঞ্চি), কিসমিসঃ ৭/৮ টা।
প্রণালীঃ
কড়াইতে তেল এবং ঘি (অপশন্যাল) গরম করে তাতে সুজি ভাঁজুন। (এই পর্যায়ে এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে দিতে পারেন)। হলদে ভাব এসে চমৎকার একটা ঘ্রান রান্নাঘর ভরিয়ে তুলবে। এবার দুধ এবং চিনি দিয়ে দিন।
হালকা আঁচে নাড়াতে থাকুন। (এই পর্যায়ে কিসমিস দিয়ে দিতে পারেন)। নিদিষ্ট দুরুত্ব বজায় রাখুন, বুঁদ বুঁদ উঠে গায়ে পড়তে পারে! হালুয়া রান্না করতে হাতে জোর থাকা চাই, খুন্তি দিয়ে বার বার নাড়াতে হয়!
সুজি ঘন হয়ে যেতে সময় লাগবে না। চিনি দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলুন। দেখবেন কড়াইতে যেন লেগে না যায়! ব্যস হয়ে গেল সাধারন সুজির হালুয়া।









